fbpx

বিয়ে শাদির দাওয়াত আসলে আগে শুনি ডেকরেটর কে, মানে কোন বাবুর্চি রান্না করবে। বাবুর্চি পছন্দ হলে যাই, না হলে যাই না। বিরিয়ানি আমার কাছে কোন খাবার না, এটা একটা লাইফস্টাইল। অনেকে বলে, বিরিয়ানি মানেই জীবন। প্রচণ্ড ভুল। বিরিয়ানি মোটেও জীবন না, বিরিয়ানি জীবনের চেয়েও অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন ❤️

আজ আপনাকে পুরান ঢাকার ৫টা বিরিয়ানির কথা বলব। এগুলা না খেলে পাপ হয়, পাপ। আপনি যদি পাপ মোচন করতে চান, এই ব্লগের একদম নিচে দেয়া গুগল ম্যাপ ধরে চুপচাপ যাবেন, ঔষধের মত খেয়ে ঢেঁকুর তুলে চলে আসবেন। আমাকে ধন্যবাদ দেয়া লাগবে না ?

নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানি

বিরিয়ানির জগতের ‘রিয়েল মাদ্রিদ’ হচ্ছে হাজীর বিরিয়ানি। আমাকে মাদ্রিদিস্তা ভাবার কোন কারণ নাই, হাজীর বিরিয়ানিকে রিয়েল মাদ্রিদ বলার কারণ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মত বিরিয়ানির জগতে সবচেয়ে সফল হচ্ছে হাজীর বিরিয়ানি।

হাজী বিরিয়ানির যাত্রা শুরু ১৯৩৯ সালে। বংশ পরম্পরায় এই ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে রেখেছে হাজী হোসেনের পরিবারের লোকজন। এখন এই ব্যবসার দেখাশোনা করেন হাজী মুহাম্মদ বাপী যিনি প্রতিষ্ঠাতা হাজী মুহাম্মদ হোসেনের নাতি।

  • হাজীর বিরিয়ানির প্রথম বিশেষত্ব হচ্ছে তারা বিরিয়ানি রান্নায় ঘি বা বাটার ওয়েল এর পরিবর্তে শুধু সরিষার তেল ব্যবহার করে।
  • আর দ্বিতীয় বিশেষত্ব হচ্ছে, এই দোকানের কোন সাইনবোর্ড নাই। অবশ্যই সবাই এক নামে চেনে।

খাবারের জগতে হাজীর বিরিয়ানী বাংলাদেশের একটা যুগান্তকারী ব্র্যান্ড। হাজীর বিরিয়ানি রান্না করা হয় শুধুই খাসির মাংস দিয়ে। আরেকটা বিশেষত্ব হচ্ছে কাঁঠাল পাতার বিশেষ এক ঠোঙায় করে এই বিরিয়ানি পার্সেল করা হয়। অন্য কোন কাগজ কিংবা বক্সে পার্সেল দেওয়া হয় না। এটিও হাজীর বিরিয়ানির একটি ঐতিহ্য হিসেবে ধরা হয়।

নাজিরাবাজারের হাজীর বিরিয়ানি
হাজীর বিরিয়ানি

ঠিকানা:
৭০ কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিরা বাজার (প্রধান শাখা)

সময়সূচী:
সকাল ৭ টা থেকে ৯টা এবং সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা। তবে যত চাহিদাই থাকুক হাজীর বিরিয়ানিতে সকালে দুই ডেকচি আর বিকালে তিন ডেকচির বেশী বিক্রি করা হয় না।

দাম:
প্রতি প্লেট ১৪০ টাকা

বেচারাম দেউরীর ‘নান্না বিরিয়ানি’ এর মোরগ-পোলাও

এই দোকানের মতো মোরগ-পোলাও বাংলাদেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না, এটা আমি নিঃসন্দেহে বলে দিতে পারি। মোরগ-পোলাও বাদ দিলাম, এদের ঝোলের যেই স্বাদ, সেটাও এককথায় অমৃত এর কাছাকাছি।

১৯৬২ সালের দিকে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে বাবুর্চি নান্না মিয়া বিরিয়ানির দোকান দিয়ে আলোচনায় আসেন। এখানে খাসির কাচ্চির পাশাপাশি মোরগ-পোলাও, খাসির বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, ফিন্নি টিকিয়া ও বোরহানি পাওয়া যায়। তবে নান্না মূলত দেশ বিখ্যাত তাঁদের মোরগ-পোলাও এর জন্যই।

বেচারাম দেউড়ির নান্নার মোরগ পোলাও
নান্নার মোরগ পোলাও

ঠিকানা:
বেচারাম দেউরী, তারা মসজিদের সামনে

সময়সূচী:
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা

দাম:
মোরগ পোলাও ১১০ টাকা
খাসির বিরিয়ানি হাফ ১০০ আর ফুল ২০০ টাকা
খাসির কাচ্চি হাফ ১২০ টাকা এবং ফুল ২৪০ টাকা
বোরহানি হাফ লিটার ১০০ টাকা ও লাবাং ১৪০ টাকা করে

নারিন্দার ঝুনুর মোরগ পোলাও

ঝুনুর বিরিয়ানীর জন্ম ১৯৭০ সালে নুর মোহাম্মদের হাত ধরে। ঐ বছর থেকে নারিন্দায় স্বল্প পরিসরে তিনি মোরগ পোলাও বিক্রি করতে শুরু করেন। তার মেয়ে ঝুনুর নামেই তিনি দোকানের নাম রাখেন। ১৯৮৮ সালে নূর মোহাম্মদ মারা গেলে তার ভাই এটির দায়িত্বে ছিলেন।বর্তমানে তার ভাইয়ের ছেলে দোকানটি পরিচালনা করছে।

প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি চালের পোলাও রান্না করা হয়। অরিজিনাল চিনিগুঁড়া চালের পোলাও, দেশি মোরগের সিদ্ধ মাংস, দেশি মুরগির ডিম, গিলা-কলিজার কোরমা আর পেঁয়াজ-শসার মিক্সড সালাদ দিয়ে পরিবেশন করা হয় এই পোলাও।

নারিন্দার ঝুনুর মোরগ পোলাও
ঝুনুর মোরগ পোলাও

ঠিকানা:
নারিন্দা পুলিশ ফাড়িঁর পশ্চিম পাশে ঝুনুর পোলাও ঘরের অবস্থান।

সময়সূচী:
প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮/৯টা। রমজান মাসেও একই সময় দোকান খোলা পাবেন।

দাম:
প্রতি প্লেট মোরগ পোলাও ১২০ টাকা (এক পিস মাংস)
হাফ প্লেট মোরগ পোলাও ১৫৫ টাকা (দুই পিস মাংস থাকে)
কাশ্মীরি ফিরনি প্রতি কাপ ২৫ টাকা

নাজিরা বাজারের হানিফের বিরিয়ানি

হানিফ বিরিয়ানির যাত্রা শুরু ১৯৭৫ সালে। হাজী মোহাম্মদ হানিফ এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ২০০৫ সালে হাজী হানিফের মৃত্যুর পর তার ছেলে হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম রনি ব্যবসার হাল ধরেন। 

মূলত কাচ্চি বিরিয়ানি হানিফের প্রধান আকর্ষণ। ঠিক হাজী’র বিরিয়ানির উল্টা পাশে দোকান হওয়ায় হানিফ বিরিয়ানি’র খাবারের মান এবং স্বাদ দুটোই খুবই মেইন্টেন করা হয়, না হলে নাজিরাবাজারে হাজীর সাথে ব্যাবসা করে টিকে থাকা এত সহজ না। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে স্থানীয়দের বেশিরভাগেরই মতামত স্বাদের দিক দিয়ে হানিফ, হাজীর চেয়ে ভালো।

নাজিরাবাজারের হানিফ বিরিয়ানি
হানিফ বিরিয়ানি

ঠিকানা:
চকবাজার জাহাজ বিল্ডিং ও ৩০ আলাউদ্দিন রোড, নাজিরা বাজার (প্রধান শাখা)
৪২ জনসন রোড, রায়সাহেব বাজার (প্রথম শাখা)

সময়সূচী:
প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।

দাম:
হাফ প্লেট ৯০ টাকা
ফুল প্লেট ১৬০ টাকা
স্পেশাল ১৮০ টাকা

বংশালের শমসের আলীর ভূনা খিচুড়ি

ঝুম বর্ষা কিংবা হিমশীতল আবহাওয়া হলে সেটা বিরিয়ানীর দিন না, দিনটা খিচুড়ির। খিচুড়ি যদি হয় পুরান ঢাকার শমশের আলীর ভুনা খিচুড়ি আর সঙ্গে খাসির লেগ রোস্ট, তাহলে তো কথাই নাই! বর্ষা-শীতে বেশি জমলেও অন্য ঋতুতেও কিন্তু কম যায় না এ খিচুড়ি! শমসের আলী (৪৫) প্রতিদিন নিজের হাতে এই খিচুড়ি রান্না করেন।

বাবুর্চি শমসের আলী 
শমসের আলী

অন্য খিচুড়ি থেকে এই খিচুড়ির বিশেষত্ব কি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোঘল আমলে খিচুড়ি যেসব প্রণালীতে তৈরি করা হতো তিনিও ঠিক সেই রেসিপিগুলা মেনে পুরাপুরি দেশীয় সব মশলায় এই খিচুড়ী তৈরি করে যাচ্ছেন।

শমশের আলীর ভুনা খিচুড়িতে দেশীয় চিনি গুড়া পোলাও চাল ব্যবহার করা হয়। ভিন্ন স্বাদ এনে দেয় এ চাল। তাছাড়া দেশি খাসির মাংস দিয়ে তৈরি লেগ রোস্ট আর মশলা ব্যবহার করায় এই খিচুড়ির স্বাদ একদম আলাদা।

বংশালের শমসের আলীর ভূনা খিচুড়ি এবং খাসির লেগ রোস্ট
শমসের আলীর ভূনা খিচুড়ি এবং খাসির লেগ রোস্ট

ঠিকানা:
১১৩, চুড়িওয়ালা গলি, বংশাল, ঢাকা

সময়সূচী:
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত

দাম:
খাসির নর্মাল পিস সহ প্রতি হাফ প্লেট ১২০ টাকা, ফুল প্লেট ২৪০ টাকা
খাসির লেগ পিস সহ প্রতি হাফ প্লেট ১৫০ টাকা

Scroll to Top